ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
ইসলামী ব্যাংক কিভাবে সুদ মুক্ত লেনদেন করে
আলহামদুলিল্লাহ। আপনি জেনে থাকবেন বর্তমান ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী একটি উন্নততর ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এটি ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি ও সাফল্য অর্জন করেছে।
কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ধারার প্রবর্তক এই ব্যাংকের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত বিকাশমান ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন অধিক পরিমাণ চিন্তা ও গবেষণা। এই ব্যাংকের নিয়ম নীতি এবং পরিচালনা পদ্ধতি মানুষের সামনে পেশ করার জন্য আমাদের আজকের এই প্রচেষ্টা।
পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
- অংশীদারি পদ্ধতি
- ক্রয় - বিক্রয় পদ্ধতি
- বাই মুরাবাহার কত প্রকার
- বাই মুরাবাহার বৈশিষ্ট্যসমুহ
- বাই মুয়াজ্জেলের বৈশিষ্ট্যসমুহ
- ইজারা পদ্ধতি
- ইজারা বা হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক
- হায়ার পার্সেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য সমূহ
- আমাদের শেষ কথা
ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি--ইসলামী ব্যাংক যে কয়টি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে নিচে আপনাদের অবগতির জন্য সে গুলির উল্লেখ করা হলো:
- অংশীদারি পদ্ধতি
- ক্রয় বিক্রয় পদ্ধতি
- ইজারা পদ্ধতি
- অংশীদারি পদ্ধতি-- ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
ইসলামী ব্যাংক অংশীদারি পদ্ধতিতে লাভের উদ্দেশ্যে কোন ব্যবসায়ী মূলধনের যোগান দেয় এবং কারবারে লাভ লোকসানে অংশগ্রহণ করে। এ পদ্ধতি হলো দুই প্রকার।( ক) মুদারাবা ( খ) মুশারাকা
ক । মুদারাবাঃ আরবী দারবুন থেকে মুদারাবার উৎপত্তি। দারবুন অর্থ চলাফেরা করা, সফর করা, ভ্রমণ করা ইত্যাদি। এটা একটি অংশীদারী কারবার। যে কারবারে একপক্ষ মূলধন যোগান দেয় এবং অপরপক্ষ শ্রম, মেধা ও সময় ব্যয় করে কারবার পরিচালনা করে তাকে মুদারাবা কারবার বলে। যিনি মূলধন যোগান দেন তাকে সাহিবুল মাল বলে এবং যিনি মূলধন গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাকে মুদারিব বলে। এটি একটি অংশীদারি কারবার।
লাভ হলে পুজির মালিক এবং মুদারিব চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা বন্টন করে নেন এবং লোকসান হলে সাহিবুল মাল সম্পূর্ণ ক্ষতি বহন করেন। মুদারিবের শুধু শ্রম, মেধা ও সময় লোকসান । আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবি খাদিজা রাঃএর সাথে মুদারাবা ব্যবসা করতেন ।
এখানে বিবি খাদিজা রাঃ ব্যবসায়ের মূলধন যোগান দিতেন এবং রাসুলুল্লাহ সাঃ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সাহাবী রাঃ বৃন্দ পরস্পরের মূলধন নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মুদারাবা আবার দুই প্রকার। ( ১) মুদারাবা আল মুতলাক (২) মুদারাবা মুকাইয়েদা।
আরো পড়ুনঃ
খ। মুশারাকাঃ আরবি শিরকাত থেকে মুশারাকার উৎপত্তি। শিরকাত অর্থ অংশীদার হওয়া। তাই মুশা রাকার অর্থ অংশীদারিত্ব। মুশারাকা বলতে এমন একটি অংশীদারি কারবারকে বুঝায় যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে কারবার পরিচালনা এবং কারবারের লাভ ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে।
কারবারে লাভ হলে অংশীদারগণ পূর্বনির্ধারিত হারে ভাগ করে নেয় এবং লোকসান হলে নিজ নিজ পুজির অনুপাতে ক্ষতি বহন করে। মুশারাকা আবার চার প্রকার। (১) শিরকাত আল মুফাওয়াদা (২) শিরকাত আল ইনান (৩) শিরকাত আল আবাদান বা সানাই (৪) শিরকাত আল ওয়াজুহ।
(১) শিরকাত আল মুফাওয়াদা ঃ অংশীদারি কারবারে পুজির পরিমাণ সমান লাভ লোকসান কর্মের হার ও সমান। অর্থাৎ সম্পদ ও দায়ের ক্ষেত্রে অংশীদারদের সবাই সমাধান অংশীদার। এ ধরনের এই অংশীদারী কারবারে অংশীদারদের সামাজিক মর্যাদা ও ধর্ম একই হতে হবে।
(২) শিরকাত আল ইনান ঃ এ ধরনের অংশীদারি কারবার প্রত্যেক অংশীদারের মূলধনের পরিমাণ সমান নয়। এখানে লাভ লোকসানের অংশ বন্টনের বাধা ধরা কোন নিয়ম নাই। অর্থাৎ অংশীদারদের মধ্যে লাভ লোকসানের হার সমান হবার কোন দরকার নেই। সকল শ্রেণীর বা জাতির লোকদের মধ্যে এ ধরনের কারবার চুক্তি হতে পারে। ব্যবসায় অংশীদার গণ একে অপরের প্রতিনি... প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পত্তিতে পক্ষকে ধার দিতে পারে না।
(৩) শিরকাত আল আবাদান বা সানাইঃ এটি বিভিন্ন পেশা ও বৃত্তির লোকদের মধ্যে গঠিত পেশা ভিত্তিক অংশীদারি কারবার। বিভিন্ন পেশার লোকেরা একত্রিত হয়ে যদি এ শর্তে একমত হয় যে তারা নিজেদের শ্রম দিয়ে কোন দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদন করে তার লাভ কিংবা লোকসান নির্দেশ সম্মতি অনুযায়ী ভাগ করে নেবে তবে সে ক্ষেত্রে সরকার সানাই এর সৃষ্টি হয়। এখানে অংশীদারদের দক্ষতা অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের তারতম্য অনুযায়ী লাভ লোকসান বন্টনের হতে পারে।
(৪) শিরকাত আল ওয়াজুহঃ দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যদি কোন মূলধন ছাড়াই এর সাথে রাজি হয় যে তারা ধারে পণ্য সম্প্রীতি নিয়ে এনে বিক্রি করবে এবং পরস্পর লাভ লোকসভা নিজের মধ্যে ভাগ করে নেবে সেটাই হবে সিরকাত আল-আজু কারবার। এটি বিনা পুঁজির ব্যবসা। এ ধরনের কারবারে লাভ ও লোকসান সমানহারে বন্টিত হয়।
গ । মুযারায়াঃ মুযারায়া হচ্ছে জমি বর্গা চাষ করা। এটি এমন এক চুক্তি যেখানে ব্যক্তির জমিতে উৎপাদিত শস্য ভাগাভাগির শর্তে অপর কোন ব্যক্তি জমি চাষাবাদ করে । জমির মালিক যদি বীজ যন্ত্রপাতি ও সেচের ব্যবস্থা করে তাহলে এক ধরনের ভাগ হবে আর চাষী নিজেই যদি বীজ ও যন্ত্রপাতি দেয় তাহলে ভাগাভাগি ভিন্নতর হবে।
ঘ। মুসাকাতঃ মুসাকাত হচ্ছে এমন একটি চুক্তি যেখানে কোন ফসলের বাগান বা ফলনশীল বৃক্ষের মালিক তার বাগান বা বৃক্ষ ভাগাভাগির শর্তে অপর কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বাগান বা বৃক্ষের পানি সেচ ও পরিচর্যা করার দায়িত্ব অর্পণ করে তাকে মুসাকাত বলে ।
- ক্রয় - বিক্রয় পদ্ধতি-- ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
যে পদ্ধতিতে মালামাল ক্রয় করে গ্রাহকের নিকট লাভে বিক্রয় করা হয় এ পদ্ধতিকে ক্রয় বিক্রয় পদ্ধতি বলে । এক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের অনুরোধে তার চাহিদা মোতাবেক পণ্য সংগ্রহে ক্রয় করে এবং তারই নিকট লাভে বিক্রি করে। ক্রয় বিক্রয় নীতির আওতায় কয়েক প্রকার বিনিয়োগ পদ্ধতি আছে। নিচে সেগুলোর বর্ণনা দেয়া হলোঃ.
বাই- মুরাবাহা
বাই -মুয়াজ্জাল
বাই -সালাম
বাই- ইসতিসনা
১। বাই মুরাবাহাঃ আরবি বাইউন ও রিবহুন শব্দ থেকে বাই মুরাবাহার পরিভাষাটির উৎপত্তি। বাই অর্থ ক্রয়-বিক্রয় এবং রিবহুন অর্থ সম্মত লাভ । সুতরাং বাই মুরাবাহা অর্থ চুক্তির ভিত্তিতে সম্মত লাভে বিক্রয়। বাই মুরাবাহা মূলত একটি ক্রয় বিক্রয় পদ্ধতি।
"যে পদ্ধতিতে ব্যাংক চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহকের অনুরোধে গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক নির্ধারিত মূল্যে তৃতীয় কোন পক্ষ হতে শরিয়াহ অনুমোদিত দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করে ক্রয় মূল্যের সাথে নির্ধারিত মুনাফা ধার্য করে ভবিষ্যতে কোন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রয় করে তাকে বাই মুরাবাহা বিনিয়োগ বলে।
বর্তমান বিশ্বে ইসলামী ব্যাংক গুলি শুরু থেকেই ইসলামিক ফিকার গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত থাকায় এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এ পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষ আদিকাল থেকে যেমন লেনদেন করেছে অনুরূপ বর্তমান জনতা প্রচলিত আছে। মানুষের দরকার এই মোরা পদ্ধতি উদ্ভব হয়েছে মানুষের দরকার এই পদ্ধতি টিকে আছে। ইসলামী ইসলামী ব্যাংক গুলি প্রাচীন বাই মুরাবাহা ম্যাকানিজম এর সাথে আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য ম্যাকানিজমের সমন্বয়ে ঘটিয়েছে মাত্র।
- বাই মুরাবাহার কত প্রকার--ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
বাই মুরাবাহা আবার চার প্রকার ( ১) বাই মুরাবাহা বিন নকদ (২) বাই মুরাবাহা বিন আজল (৩) সাধারণ বাই মুরাবাহা (৪) আদেশের ভিত্তিতে বাই মুরাবাহা ।
( ১) বাই মুরাবাহা বিন নকদঃ যে সকল মুরাবাহার স্থিরকৃত বা সম্মত মূল্য সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধিত হয় তাকে মুরাবাহা বিন নকদ বলে ।
(২) বাই মুরাবাহা বিন আজলঃ যে সকল মুরাবাহার স্থিরকৃত বা সম্মত মূল্য বিলম্বে পরিশোধিত হয় তাকে বাই মুরাবাহা বিন আজল বলে।
(৩) সাধারণ বাই মুরাবাহাঃ যে বাই মুরাবাহা লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়পক্ষ বর্তমান থাকে যেখানে বিক্রেতা কোন একজন ক্রেতার অনুরোধ ছাড়াই সাধারণ ব্যবসায়ী হিসাবে বাজার থেকে পণ্য সামগ্রী খরিদ করে নিজ কব্জায় ও দখলে সংরক্ষণ করে এবং আগত ক্রেতা কাছে প্রয়োজনীয় খরচ ও ক্রয় মূল্যের সাথে লাভ যোগ করে পণ্য মূল্য ধার্য করে বিক্রি করে তাকে সাধারণ বাই মুরাবাহা বলে।
(৪) আদেশের ভিত্তিতে বাই মুরাবাহাঃ যে বিনিয়োগে ক্রেতা বিক্রেতা এবং মধ্যস্থতাকারী তিনটি পক্ষ থাকে সেই বিনিয়োগকে আদর্শ ভিত্তিতে বাই মুরাবাহা বলে। ক্রেতা কোন ব্যবসায়ের কাছে কোন পণ্য কেনার জন্য গেলে তার কাছে যদি ওই পণ্য মজুদ না থাকে তখন তিনি তৃতীয় পক্ষ অক্ষর কোন ব্যবসার কাছ থেকে মালামাল সংগ্রহ করে ওই ক্রেতার নিকট খরচ লাভ সহ বিক্রি করার প্রস্তাব দেয় বা ওই ক্রেতা কোন মালামাল অন্য ব্যবসায়ী এর কাছ থেকে কিনে তার কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব করার অঙ্গীকার করে।
- বাই মুরাবাহার বৈশিষ্ট্যসমুহ- ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
১। বাই মুরাবাহা পদ্ধতির তিনটি পক্ষ থাকে। যেমন ব্যাংক ক্রেতা এবং বিক্রেতা।
২। বিনিয়োগ গ্রাহক তার চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকের নিকট থেকে দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করে এবং বিক্রয় মূল্য নির্দিষ্ট সময়ে পরে পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে।
৩। বিন্দিয়া গ্রাহক কে তার অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যাংক থেকে মাল খরিদ করে নিতে হয় অন্যথায় ব্যাংকের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে।
৪। বিনিয়াগ্রাহকের প্রস্তাব বিবেচনা আগে তার ব্যবসায়িক যোগ্যতা অভিজ্ঞতা বিশ্বস্ততা এবং সুনাম ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাংক খোঁজখবর নিয়ে সন্তুষ্ট হয়।
৫। বাই মুরাবাহা চুক্তি সম্পাদনের সময় মালের অস্তিত্ব থাকতে হবে এবং ক্রয় যোগ্য হতে হবে।
৬। চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সামগ্রী বিনিয়োগ গ্রাহক অথবা তার প্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট তারিখে এবং নির্ধারিত স্থানে সরবরাহ করতে হয়।
৭। চুক্তি অনুযায়ী নির্যাতন মূল্য ১৫ বৃদ্ধি করা যায় না।
৮। ব্যাংক ক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করতে পারে।
৯। বিনিয়োগকৃত মালামালের মালিকানা বিনিয়োগ গ্রহে কোন নিকট থাকে।
১০। বিক্রয় শক্তির শর্তা বলে কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো পরিবর্তন অনুমোদনযোগ্য নয়।
২। বাই মুয়াজ্জালঃ আরবি বাই ও আজল থেকে বাই মুয়াজ্জালের উৎপত্তি । বাই অর্থ ক্রয় বিক্রয় এবং আজল অর্থ সময়। সুতরাং বাই মুয়াজজাল অর্থ নির্ধারিত সময়ে দাম পরিশোধের শর্তে বাকিতে মালামাল বিক্রি করা ।
যে পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মত মূল্যে পরিশোধের শর্তে শরিয়াহ অনুমোদিত পণ্য সামগ্রী বিক্রয় করা হয় তাকে বাই মোয়াজ্জাল বলে ।
- বাই মুয়াজ্জেলের বৈশিষ্ট্যসমুহ-- ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
১। বিনিয়োগ গ্রাহক ব্যাংকের নিকট থেকে তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সামগ্রী কেনার ওয়াদা খ সহ উক্ত নির্ধারিত পণ্য ক্রয়-পূর্বক তার নিকট বাকি মূল্য বিক্রয় করার জন্য ব্যাংককে অনুরোধ করে।
২। অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যাংকের নিকট থেকে মাল ক্রয় করে নিত্য নিতে ক্ষতিপন দিতে বাধ্য থাকে।
৩। অঙ্গীকার পালনে বাধ্য করা অথবা ভঙ্গের কারণে ক্ষতিপূরণ তাদের জন্য গ্রাহকের নিকট থেকে নগদ বা সহায়ক জামানত সহজে কোন ধরনের দ জামানত ল চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বা পরে নেয়া যায়।
৪। তার ব্যবসায়িক যোগ্যতা অভিজ্ঞতা সুনামি ব্যাপারে ব্যাংক খোঁজখবর নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে।
৫। ভাই মজার চুক্তি সম্পাদনের সময় মালের অস্তিত্ব থাকতে হবে এবং ক্রয়যোগ্য হতে হবে।
৬। মালামাল বিক্রয় এবং সরবরাহের পূর্ব পর্যন্ত ঝুঁকি ব্যাংক বহন করে। বিক্রয় এবং সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার পর যাবত ঝুঁকিবি নিয়োগ গ্রাহক...
৭। মালামাল বিনিয়োগ গ্রাহক অথবা তার প্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট তারিখে আরবরাহ করতে হয়।
৮। ব্যাংক কেনার চেয়ে অধিক মূল্য মালামাল বিক্রয় করে তবে মরা বাহার মতো ব্যাংক ক্রয় মূল্য এবং লাভ বিনিয়োগ ব্রাকের নিকট প্রকাশ করে না।
৯। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য পুনরায় বৃদ্ধি করা যায় না।
১০। ব্যাংক ক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
৩। বাই সালামঃ বাই সালাম আরবি শব্দ । বাই অর্থ ক্রয় বিক্রয় এবং সালাম অর্থ অগ্রিম। সুতরাং বাই সালাম অর্থ পণ্যের অগ্রিম ক্রয় বিক্রয়। সাধারণত কৃষি, শিল্প ক্ষেত্রে চলতি মূলধন যোগানের জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বাই সালাম এমন এক ক্রয় বিক্রয় চুক্তি যেখানে ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করার শর্তে ব্যাংক গ্রাহকের সহিত তার সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত ক্রয় মূল্য আগাম পরিশোধ করে ।
বিক্রেতা ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট সময়ে চুক্তি অনুসারে পণ্য সরবরাহ করে। এ পদ্ধতি বাই মোয়াজ্জেলের ঠিক বিপরীত। এই চুক্তির সময় পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণ, সরবরাহের স্থান ও সময় উল্লেখ করতে হবে।
প্যারালাল বাই সালামঃ বাই সালাম চুক্তিতে কৃত ও পাওনা থাকা মাল অপর একটি সালাম চুক্তির মাধ্যমে বিক্রয় করা হলে সেই চুক্তিকে প্যারালাল বা সমান্তরাল বাই সালাম চুক্তি বলে।
বাই ইসতিসনাঃ আরবি সানা হতে তৃষ্ণা শব্দের উৎপত্তি। সানা শব্দের অর্থ শিল্প, তৈরি করা, নির্মাণ করা উৎপাদন করা, প্রস্তুত করা ইত্যাদি বুঝায়। এটা আদেশের ভিত্তিতে পণ্য তৈরি বা সংগ্রহ করে মাল বানিয়ে বিক্রয় করার নামই বাই ইসতিসনা।
প্যারালাল বাই ইসতিসনাঃ ইসতিসনা চুক্তির বিক্রেতা অপর কোন প্রস্তুতকারকের সাথে যে দ্বিতীয় একটি ইসতিসনা চুক্তি করে আদেশদাতা ক্রেতাকে মাল সরবরাহ করে তখন তাকে প্যারালাল বা সমান্তরাল ইসতিসনা বলে। দেশীয় নিয়মে এটাকে সাব কন্টাক্ট বলে।
৫। বাই জোয়ালাঃ বাই জোয়ালা এমন এক চুক্তি যেখানে মজুরি, কমিশন, ফি ইত্যাদির বিনিময়ে সেবা বিক্রয় করা হয়। যেমন-- দর্জিকে প্যান্টের পিস দিয়ে একটি প্যান্ট তৈরি করে দেয়ার আদেশ দেয়া হলো। দর্জি ৪০০ টাকার বিনিময়ে প্যান্ট তৈরি করে দিল। এটাই হলো জোয়ালা ক্রয় বিক্রয়। বাই ইসতিসনায় বিক্রেতা বাস্তব পণ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ করে আর বাই--জোয়ালায় বিক্রেতা সেবা বা কাজ বা শ্রম বিক্রি করে । এই পদ্ধতি ছাত্র, হজ্বযাত্রী, উমরা যাত্রী এবং বিদেশগামীদের জন্য ব্যবহার করা যায়।
৬। বাই ইসতিজরারঃ বাই ইসতিজরার হচ্ছে সরবরাহ বিক্রয়। যখন কোন ক্রেতা কোন সরবরাহকারীর সাথে চুক্তি করে যে, সরবরাহকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত মূল্যে এবং নির্ধারিত নিয়মে মূল্য পরিশোধের শর্তে পণ্যটি নিয়মিত সরবরাহ করবে তখন সেই চুক্তিকে বাই ইসতিজরার বলে।
যেমন-- নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত ভাবে সিমেন্ট, ইট, বালি, পাথর, খোয়া ইত্যাদি সরবরাহ করার আদেশ দিয়ে যে চুক্তি করে তাকে বাই- ইসতিজরার বলে। আল মিজান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক অব পাকিস্তান এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।
৭। বাই--আলদাইনঃ বাই আল দাইন হচ্ছে দেনা বা ঋণ ক্রয় বিক্রয়। প্রচলিত ব্যাংকের বিনিময় বিল ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে বাই আল দাইন। যেমন-- মিস্টার ক মিস্টার খ এর নিকট এক লক্ষ টাকা পাবে এবং তিন মাস পরে পরিশোধযোগ্য। কিন্তু মিস্টার ক এর এই মুহূর্তে টাকার দরকার। সে মিস্টার গ এর নিকট দেনাটি বিক্রি করে দিল। মেয়াদ শেষে মিস্টার গ প্রথম দেনাদার খ এর নিকট থেকে এক লক্ষ টাকা আদায় করে নিবে। এই নিয়মই হলো বাই আল-দাইন।
৮। বাই তাবারুকঃ বাই তাবারক এক ধরনের বিনিয়োগ পদ্ধতি। বাকিতে পণ্য ক্রয় করা এবং অন্যের নিকট কম মূল্যে নগদে বিক্রি করা। নগদ টাকার প্রয়োজনে গ্রাহক এই পদ্ধতি অনুশীলন করে। গ্রাহক ব্যাংকের নিকট নির্দিষ্ট মাল ক্রয়ের জন্য আবেদন করে এবং ব্যাংক এটা কারো নিকট বিক্রি করে নগদ টাকা গ্রহণ করে। ডক্টর ইউসুফ আল-কারজাভী এটাকে জায়েজ বলেছেন। কিন্তু ইমাম ইবনে তাইমিয়া মাকরূহ বলেছেন। ব্যাংক আলসাফি কাতার এ পদ্ধতি ব্যবহার করে।
৯। ইসলামিক পনিংঃ এই পদ্ধতিতে ব্যাংক গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাহিদা মোতাবেক অর্থ গ্রাহককে কর্জে হাসানা প্রদান করে গ্রাহক স্বর্ণ বা মূল্যবান সম্পদ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখে। গ্রাহক থেকে আল ওয়াদিয়া নীতিতে সংরক্ষণ চার্জ নেয়। নগদ টাকার প্রয়োজন হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ইসলামিক পদ্ধতি ব্যবহার করে। ব্যাংক ইসলাম মালয়েশিয়া বারহাদ এই পদ্ধতি অনুশীলন করে।
১০। বাই আল ইনাহঃ বাই আল ইনাহ এমন এক ধরনের ব্যবসা যেখানে সত্যিকার অর্থে কোন ক্রয় বিক্রয় হয় না। এখানে ক্রয় বিক্রয় দেখিয়ে সুদি লেনদেন করা হয়।
১১। বাই আল মুসাওয়ামাহঃ এ প্রকারের ক্রয় বিক্রয় বিশ্বাস অবিশ্বাসের কোন প্রশ্ন থাকে না এখানে বিক্রেতার ক্রয় মূল্য ঘোষণা বা তার উপর বিশ্বাস স্থাপনের কোন প্রয়োজন নেই। ক্রেতা বিক্রেতা সরাসরি দল কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারণ করে ক্রেতা লাভ ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে জানার প্রয়োজন মনে করে না।
১২। বাই আস সর্ফঃ বাই আস সর্ফ একটি ট্রেডিং পদ্ধতি যেখানে ব্যাংক গ্রাহক এর বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করে সম্মত মূল্যে এবং লাভে বিক্রি করে। ব্যাংক রপ্তানি দায় যা বৈদেশি মুদ্রা থাকে তা ক্রয় করে এটাকেই বাই আস সর্ফ বলে।
- ইজারা পদ্ধতি-- ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
ইজারা শব্দটি আরবি আজর ও উজরাত থেকে উৎপত্তি। এর অর্থ প্রতিদান, আয়, মজুরি, ভাড়া, বিবেচনা, পারিশ্রমিক ইত্যাদি। এটা কোন সম্পদের কাজ, সেবা বা ব্যবহারের বিনিময় মূল্য।
- ইজারা বা হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক
হায়ার পার্সেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক একটি বিশেষ ধরনের চুক্তি যা শিরকাত, ইজারা ও বিক্রয় এই তিনটি পদ্ধতির সমন্বয়ে ঘটেছে।
১। শিরকাতঃ শিরকাত অর্থ অংশীদারিত্ব। শিরকাতুল মিল্ক মানে মালিকানায় অংশীদারিত্ব। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হয়ে যৌথ মালিকানা অর্জনের নিমিত্তে মূলধন বিনিয়োগ করে কোন সম্পদ অর্জন করলে তাকে শিরকাতুল মিল্ক বলে।
২। ইজারাঃ ইজারা এমন এক ধরনের পদ্ধতি যেখানে ভাড়া গ্রহীতা সুনির্দিষ্ট প্রতিদান বা ভাড়ার বিনিময়ে ভাড়া গ্রহীতা ভাড়া দাতার সম্পদ থেকে সেবা বা সুবিধা ভোগ করে। অর্থাৎ অর্থ বা মুনাফার বিনিময়ে কোন জিনিসকে ভোগ করতে দেয়া। যেমন গাড়ি, বাড়ী, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। এটা একটি ভাড়া চুক্তি যেখানে মালিকানাধীন কোনও নির্দিষ্ট সম্পদ স্থিরকৃত মেয়াদে নির্ধারিত ভাড়ায় গ্রহীতার নিকট ভাড়া দেয়া হয়।
৩। বিক্রয়ঃ ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যে চুক্তির মাধ্যমে ক্রেতা কর্তৃক সম্মত মূল্যে পরিশোধের শর্তে নির্দিষ্ট মালামাল বা সম্পদের মালিকানা ও দখল বিক্রেতার কাছ থেকে হস্তান্তরিত হয় তাকে বিক্রয় বলে।
পরিশেষে বলা যায়, যে পদ্ধতিতে দুটি পক্ষ সম বা অসম অনুপাতে মূলধন যোগান দিয়ে কোন সম্পত্তির মালিকানা অর্জন পূর্বক পরস্পর সম্মতিক্রমে ভাড়া ও বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে কিস্তিতে পরিশোধে শর্তে এক পক্ষের অংশ অন্য পক্ষের নিকট ভাড়া দেয় ও বিক্রয় করে তাকে হায়ার পার্সেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক বলে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে হায়ার পার্চেজ আন্ডার শির্কাতুল মিল্ক তিনটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়।
১। যৌথ মালিকানায় ক্রয়।
২। ভাড়া প্রদান/ গ্রহণ।
৩। বিক্রয় এবং মালিকানা হস্তান্তর।
- হায়ার পার্সেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্ক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য সমূহ--ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ পদ্ধতি
১। এই পদ্ধতিতে ব্যাংক এবং বিনিয়োগ গ্রাহক চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ অনুপাতে মূলধন বিনিয়োগ করে যৌথ মালিকানায় নির্ধারিত সম্পদ ক্রয় করে।
২। অংশীদারগণ একমত হলে ক্রয়কৃত সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন তাদের যে কোন একজন অথবা তৃতীয় পক্ষের নামে করা যায়।
৩। ব্যাংকের মালিকানাধীন কোন অংশ গ্রাহকের নিকট বিক্রি এবং হস্তান্তর হওয়ার সাথে সাথে ব্যাংক অংশের ঐ কোন ভাড়া পায়না।
৪। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও গ্রাহক ব্যাংকের অংশের পুরো টাকা পরিশোধ করে সম্পত্তির মালিকানা পূর্ণভাবে পেতে পারে।
৫। গ্রাহক নির্ধারিত কিস্তি প্রদান করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে এবং তা বিক্রি হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয় করতে পারে।
৬। ব্যাংক ও গ্রাহক তাদের নিজ নিজপুঁজি অনুপাতে সম্পদের ঝুকি বহন করে।
৭। গ্রাহক এক্ষেত্রে ট্রাস্ট এর ভূমিকা পালন করে এবং সম্পত্তি ট্রাস্ট সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
৮। ব্যবহারকারী হিসাবে সম্পত্তি ভালো এবং সচল অবস্থা রাখার দায়-দায়িত্ব গ্রাহকের।
৯। ব্যাংকের লিখিত অনুমতি ছাড়া গ্রাহক সম্পদের কোন পরিবর্তন স্থানান্তর ইত্যাদি করতে পারে না।
১০। গ্রাহক কর্তৃক ব্যাংকের অংশ কিস্তিতে পরিশোধ করার ফলে ব্যাংকের মালিকানা ক্রমশ কমতে থাকে এবং গ্রাহকের মালিকানা বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় গ্রাহক সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা অর্জন করে।
- আমাদের শেষ কথা
এতক্ষন আমরা আপনাদের অবগতির জন্য ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন রকমের বিনিয়োগ পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। আশা করি আপনারা এই আর্টিকেল থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবেন।
আমরা আমাদের এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রকমের কনটেন্ট লিখে থাকি যেটা আপনাদের জ্ঞান অর্জনে বড় ধরনের ভূমিকা এবং অবদান রাখবে। আপনারা নিয়মিত আমাদের এই ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত থাকবেন। আশা করি এর থেকে অনেক নতুন নতুন বিষয় জানতে পারবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url