কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা

কিসমিস  খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা


কিসমিস হলো শুকনো আঙুর, যা বহু শতাব্দী ধরে খাদ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শুধু স্বাদেই মিষ্টি নয়, বরং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের মধ্যে কিসমিস খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, কারণ এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।

 তবে অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার কিছু অপকারিতাও রয়েছে, যা জানা জরুরি। এই প্রবন্ধে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আমরা এই নিবন্ধে কিসমিসের বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করব. আপনি আমাদের সাথে থেকে নিবন্ধন সম্বন্ধে জানতে পারবেন.

  • পোস্ট সূচিপত্র: কিসমিস  খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা
  • কিসমিস কি,পরিচয় ও ইতিহাস 
  • কিসমিসের  যত পুষ্টিগুণ
  • কিসমিস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা
  • খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা
  • সকালে ভিজানো কিসমিস খেলে যেসব উপকার
  •  শুকনোকিসমিস খেলে কি হয়
  • কালো কিসমিসের  যত উপকারিতা
  • কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা
  •  কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
  • লেখকের শেষ মতামত

কিসমিস কি,পরিচয় ও ইতিহাস 

কিসমিস হলো শুকনো আঙুর, যা সাধারণত মিষ্টি এবং ঝুঁটিহীন হয়। এটি বিভিন্ন প্রজাতির আঙুর শুকিয়ে তৈরি করা হয়, যেমন—থম্পসন সিডলেস, মুনলাইট এবং ফ্লেম সিডলেস। কিসমিস সাধারণত বাদামি, সোনালি বা কালো রঙের হয় এবং এটি স্বাদে মিষ্টি ও কিছুটা টক যুক্ত হয়.। কিসমিস শুধু একটি শুকনো ফল নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক ও পুষ্টিকর খাবার, যা প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

আরো পড়ুন:

কিসমিসের ইতিহাস: কিসমিসের ব্যবহার হাজার বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের দিকেই প্রথম কিসমিসের উৎপত্তি ঘটে। এটি প্রাচীন মিশর, গ্রিস এবং পারস্যে জনপ্রিয় ছিল। প্রাচীন গ্রীক ও রোমানরা কিসমিসকে মূল্যবান খাদ্য মনে করত এবং এটি পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হতো।মধ্যযুগে কিসমিস ইউরোপে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বিশেষত পেস্ট্রি ও মিষ্টিজাতীয় খাবারে। বর্তমানে কিসমিস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাষ করা হয়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইরান, ভারত ও চীন কিসমিস উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয়।

কিসমিসের  যত  পুষ্টিগুণ

কিসমিস শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এটি শুকনো আঙুর থেকে তৈরি হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি হওয়ার পাশাপাশি অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে।কিসমিসের পুষ্টিগুণ :

১. ভিটামিন ও খনিজের উৎস: কিসমিসে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ও ভিটামিন কে থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ও ফসফরাস সমৃদ্ধ, যা হাড় ও রক্তের জন্য উপকারী।

২. আয়রনের ভালো উৎস: রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে কারণ এতে প্রচুর আয়রন ও কপার রয়েছে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে।

৩. হজমে সহায়ক: এতে আহারযোগ্য ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও হজমশক্তি উন্নত করে। প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৪. হার্টের জন্য ভালো: কিসমিসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল থাকে, যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ও হার্টকে সুস্থ রাখে। পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৫. এনার্জি বাড়ায়: প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি দ্রুত শক্তি প্রদান করে, তাই এটি ক্রীড়াবিদ ও ব্যায়ামকারীদের জন্য উপকারী।

৬. দাঁতের যত্নে সহায়ক:  এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল যৌগ রয়েছে, যা দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

৭. ত্বক ও চুলের জন্য ভালো: কিসমিসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চুলের গোড়া শক্ত করে।

প্রতিদিন ৩০-৪০ গ্রাম (এক মুঠো) কিসমিস খেলে স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। সকালে ভিজিয়ে খেলে এটি সহজে হজম হয় এবং আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়। কিসমিস শুধু খাবারে স্বাদ বাড়ায় না, এটি সুস্থ শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী.

কিসমিস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক: কিসমিসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্তনালীগুলোকে শিথিল করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

২. রক্তশূন্যতা দূর করে:  কিসমিস আয়রনের চমৎকার উৎস, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এটি হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।

৩. হাড় মজবুত করে:  কিসমিসে ক্যালসিয়াম ও বোরন রয়েছে, যা হাড়ের গঠনকে শক্তিশালী করে এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করে।

৪. হজম শক্তি বাড়ায়:  এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা হজমক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে: যদিও কিসমিসে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তবে এটি ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৬. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।

৭. মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে: কিসমিসে উপস্থিত ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।

৮. চামড়া ও চুলের জন্য উপকারী: কিসমিসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকায় এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৯. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক:  যদিও কিসমিস মিষ্টি, এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে পরিমিত খাওয়া উচিত।

১০. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক:  এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল রয়েছে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

খালি পেটে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা 

খালি পেটে কিসমিস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হতে পারে। এটি শরীরকে ভেতর থেকে ডিটক্সিফাই করে এবং নানা পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে। নিচে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা দেওয়া হলো: 

১. হজমশক্তি বৃদ্ধি করে:  কিসমিসে ফাইবার বেশি পরিমাণে থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

২. লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখে :  খালি পেটে কিসমিস খেলে লিভার ও কিডনি থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৩. রক্তশুদ্ধি করে : কিসমিসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন থাকে, যা রক্ত পরিষ্কার রাখে এবং রক্তস্বল্পতা দূর করে।

৪. হার্টের জন্য উপকারী:  কিসমিস খেলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে:  এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৬. হাড় মজবুত করে:  কিসমিসে ক্যালসিয়াম ও বোরন থাকে, যা হাড়ের গঠন মজবুত করতে সাহায্য করে এবং বাতের সমস্যা কমায়।

৭. ত্বক ও চুলের জন্য ভালো : অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-সি থাকায় কিসমিস ত্বককে উজ্জ্বল রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

রাতে এক গ্লাস পানিতে ৭-১০টি কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে সেই কিসমিস ও পানি পান করুন। নিয়মিত খেলে দ্রুত উপকার পাবেন।

সকালে ভিজানো কিসমিস খেলে যেসব উপকার 

সকালে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়া বেশ উপকারী । এটি শরীরের জন্য নানা ধরনের পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে। কিছু প্রধান উপকারিতা  নিচে দেওয়া হলো: 

১. হজমশক্তি বাড়ায়: ভিজানো কিসমিস ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে।

২. লিভারের জন্য ভালো: ভিজানো কিসমিস লিভার থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে, ফলে শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া ভালোভাবে কাজ করে।

৩. রক্তশূন্যতা কমায়:কিসমিসে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থাকে, যা রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

৪. শক্তি বাড়ায়: এর মধ্যে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে, যা দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে এবং সারাদিন কর্মশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৫. হার্টের জন্য ভালো: কিসমিসে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা হার্টের জন্য উপকারী।

৬. হাড় মজবুত করে: এতে ক্যালসিয়াম ও বোরন থাকে, যা হাড়ের গঠন মজবুত করতে সহায়তা করে এবং অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

৭. ত্বক ও চুলের জন্য ভালো: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় কিসমিস ত্বককে উজ্জ্বল করে ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

সকালে খালি পেটে ৫-১০টি কিসমিস এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এতে উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যাবে।

শুকনো কিসমিস খেলে কি হয় 

শুকনো কিসমিস খেলে শরীরের জন্য অনেক উপকার হয়। এতে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ (যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম) থাকে, যা স্বাস্থ্য ভালো রাখে।শুকনো কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা: রক্তস্বল্পতা দূর করে, এতে আয়রন থাকায় হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। হজমশক্তি বাড়ায়, ফাইবার থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে। হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ত্বক ও চুল ভালো রাখে,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক উজ্জ্বল রাখে, আর আয়রন চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, ক্যালোরি বেশি হলেও এটি প্রাকৃতিক মিষ্টি, যা ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। শক্তি বাড়ায়,  গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকার কারণে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়।

তবে অতিরিক্ত কিসমিস খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, ওজন বাড়তে পারে, এবং কারও কারও পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমাণমতো খাওয়াই ভালো (প্রতিদিন ১০-১৫টি কিসমিস যথেষ্ট)।আরও উপকার পেতে চাইলে কিসমিস রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ও কিসমিস খেলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

 কালো কিসমিস খাওয়ার যত উপকারিতা 

কালো কিসমিস (Black Raisins) খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং শরীরের জন্য নানা ধরনের ভালো প্রভাব ফেলে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা উল্লেখ করা হলো:

১. রক্তশুদ্ধি ও হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে সহায়ক: কালো কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, কপার ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে, যা রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে,এতে ফাইবার রয়েছে, যা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী,কালো কিসমিসে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। 

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক,এতে প্রাকৃতিক সুগার এবং ফাইবার থাকায় এটি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।  ত্বক ও চুলের জন্য ভালো, এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চুল পড়া কমায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে,কালো কিসমিসে পটাশিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, এতে ক্যালসিয়াম ও বোরন রয়েছে, যা হাড়কে মজবুত করে এবং অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করে।

প্রতিদিন সকালে ৫-১০টি কালো কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। শরবত বা সালাদেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা

১. অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকি: কিসমিসে প্রাকৃতিক চিনি প্রচুর পরিমাণে থাকায় অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

২. ওজন বৃদ্ধি হতে পারে: অতিরিক্ত কিসমিস খেলে উচ্চ ক্যালোরির কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।



৩. দাঁতের সমস্যা হতে পারে: চিনি ও আঠালো প্রকৃতির কারণে কিসমিস দাঁতে আটকে গিয়ে ক্যাভিটি বা ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে।

৪. ডায়রিয়া হতে পারে: অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

৫. এলার্জির সম্ভাবনা: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিসমিস খেলে এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন চুলকানি বা ত্বকের সমস্যা।

আরো পড়ুন:

৬. অতিরিক্ত আয়রন শরীরের ক্ষতি করতে পারে: যাদের শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার সমস্যা (হেমোক্রোম্যাটোসিস) রয়েছে, তাদের জন্য কিসমিস ক্ষতিকর হতে পারে।

কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম

১. প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম কিসমিস খাওয়া নিরাপদ।

2. সকালে খালি পেটে ভেজানো কিসমিস খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

৩. ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমাপ মত খাওয়া উচিত।

৪. কিসমিস খাওয়ার পর ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করে নিন।

লেখকের শেষ মতামত

কিসমিস স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর একটি খাবার, যা নিয়মিত খেলে নানা উপকার পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত খেলে কিছু ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। সঠিক পরিমাণে কিসমিস খেলে এটি হৃদরোগ, হজমের সমস্যা, রক্তশূন্যতা, ত্বক ও চুলের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে আপনি কিসমিস খেতে পারেন।

এখন আপনি আমাদের আর্টিকেলের সাথে থেকে কিসমিসের গুনাগুন পুষ্টিগুণ উপকারিতা অপকারিতা ইত্যাদি সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন. ভবিষ্যতে এই জাতীয় আর্টিকেল পেতে হলে আমাদের এই ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন তাহলে অনেক বিষয় জানতে পারবেন.







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url